পুঠিয়া রাজবাড়ী

 
পুঠিয়া রাজবাড়ী

পুঠিয়া রাজবাড়ী

মহারানী হেমন্তকুমারী দেবীর বাসভবন হচ্ছে পুঠিয়া রাজবাড়ী । বাজশাহীর রাজবাড়ি বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের  মধ্যে অন্যতম । ইন্দোইউরোপীয় স্থাপত্যরীতিতে ১৮৯৫ সালে মাহারনী হেমন্তকুমারী দেবী এই দ্বিতল ভবনটি তৈরি করেন । এর অবস্থান রাজশাহী শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার উত্তর -পূর্বে নাটোর মহাসড়কের সম্মূখে পুঠীয়া রাজবাড়ি অবস্থিত । বাস বা ট্রেন যুগে এখানে আসা যায় । মুঘল আমলের জমিদারদের মধ্যে অন্যতম জমিদার ছিলেন পুঠিয়ার জমিদার । জানা গেছে যে ,সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে রাজা উপাধি লাভ করার পর সেঠি পুঠিয়া রাজবাড়ি হিসাবে পরিচিতি লাভ করে । তারপর ১৭৭৪ সালে জমিদারি ভাগ হয় । জমিদারি ভাগাভাগির পর জমিদারের বড় ছেলে পান পাঁচ আনা জমিদারি আর অন্য তিন  ছেলে পান সাড়ে তিন আনা জমিদারি । ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রাথা ছিল । প্রাথা বিলুপ্ত হওয়ায় রাজবাড়ির জমিদারি ও বিলুপ্ত হয় । কিন্ত জমিদারি বিলুপ্ত হলেও জমিদাররে তৈরি স্থাপনা গুলো যেমন ,প্রাসাদ , মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা এখানে ঠিকই রয়েছে । এই সুন্দর এই প্রাসাদটি তৈরি করে ছিলেন মহারানী হেমন্তকুমারী দেবী । তিনি তার শাশুড়ির স্মরণে এই প্রাসাদটি তৈরি করে ছিলেন । তার শাশুড়ির নাম ছিল শরৎ সুন্দরী দেবী । 

পুঠিয়া রাজবাড়ীর অবকাঠামো 

প্রসাদটির সমানের অংশে থাকা অলংকরণ ,স্তম্ভ,কাঠের কাজ ,রুমের দেয়ালে  লতাপাতা ও ফুলের  চিত্রকর্ম  নির্মাণ শিল্পীকর্মের দক্ষতার পরিচয় বহন করে । এই প্রাসটির ছাদ হলো সমতল । ছাদে সাধারণত কাঠের বর্গা,লোহার ভিম ,এবং টালি ব্যবহার করা হয়েছে । সেই সময় এই ভবনটি নির্মাণ কার্য পরিচালনা করার সময় পরিখা খনন করা হয়েছিল । পরিখা খনন কার্য পরিচালনা করা হয়েছিল একমাত্র ভবনটির নিরাপত্তার জন্য । এই রাজবাড়ির চারপাশে মোট ৪ টি দীঘি রয়েছে । দীঘিগুলোও অনেক বড় বড় । প্রায় এক একটি দীঘির আয়তান প্রায় ছয় একর করে । এখানে সবচাইতে বড় হলো শিব মন্দির । যা তৎকালীন সময় উপসনা করার জন্য তৈরী করা হয়েছিল । এছাড়া এখানে আরো কয়েকটি মন্দির রয়েছে । সেগুলো হলো ,গোপাল মন্দির , রাধাগোবিন্দ মন্দির ও দোলমঞ্চ ইত্যাদি । প্রতিটি মন্দির দেয়ালেই রয়েছে নিখুত কারুকার্যের সমাহার । তাছাড়াও এখানে আরো রয়েছে রানির স্নানের ঘাট , অন্দর মহল মিলিয়ে বিশাল রাজবাড়ীর অবকাঠামো ।  পুঠীয়া রাজবাড়িতে প্রবেশ করার জন্য প্রসাদের উত্তর দিক দিয়ে একটি সিংহ দরজা রয়েছে । এই দরজা দিয়ে রাজ বাড়িতে প্রবেশ করতে হয় । এখানে শ্যামনগর নামের একটি বিশাল পুকুর রয়েছে । যা মুঘল সামরাজ্যের প্রতীকি নির্দেশ করে । 

রাজশাহী থেকে পঠিয়া রাজবাড়ী যাওয়ার উপায় 

ঢাকা থেকে আপনি রাজশাহী  বাস ,ট্রেন বা বিমান যুগে যাইতে পারবেন । রাজশাহী পৌছে আপনাকে ৩২ কিলিমিটার পথ অতিক্রম করে যাইতে হবে পুঠিয়া রাজবাড়িতে । রাজশাহীগামী যেকোন বাসে ছড়ে আপনি পুঠিয়া বাস স্ট্যান্ড নামতে পারবেন । সে জায়গা থেকে ৫ বা ১০ মিনিট পায়ে হাটলে আপনার চোখে পড়বে মুঘল আমলের স্থাপত্য শিল্পের নির্দেশনা পুঠিয়া জমিদার বাড়ি । পুঠিয়ার রাজবাড়ী প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে । 

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ