ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় 


 ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় 

চেহারা মানব দেহের একটি অপরিহার্য অংশ । আর এই চেহারা সুন্দর দেখা যাক এটা সবারই চাওয়া । কিন্তু ব্রণ এমন একটা জিনিস যা আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য টাকে নষ্ট করে দিবে । ব্রণ হীন একটি সুন্দর চেহেরা কে না চায় । আর এই ব্রণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন ঘরে বসেই । ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায় জানার আগে আসুন জেনে নেই আমাদের চেহেরায় কেন ব্রণ হয় । ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার অন্যতম একটি প্রধান করাণ হলো ত্বকে অতিরিক্ত সিবাম নিসৃত হওয়া । ত্বকে মধ্যে অসংখ্যা ছিদ্র বিদ্যমান । যে গুলোর মধ্যমে ত্বকের কোষে অক্সিজেন সরবরাহ হয় । কিন্তু এই সিবাম ত্বকের অক্সিজেন সরবরাহ করা ছিদ্র গুলো বন্ধ করে দেয় । এই সময় ত্বকের সঠিক ভাবে যত্ন না নিলে চেহারায় ব্রণ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায় এবং সেখান থেকে ত্বকে কালো দাগ ও স্থায়ী দাগ তৈরি হয় । এই সবগুলো সমস্যা থেকে আপনি মুক্ত হতে পারবেন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে । আসুন নিচ থেকে জেনে নেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের ব্রণ দূর করার কিছু কার্যকারী উপায় ।

লেবুর ব্যবহার 

আমরা জানি লেবুতে  প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি আছে । আর ভিটামিন সি আমাদের ত্বকের জন্য অনেকগুরুত্বপূর্ন । লেবুতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের তৈলয়াক্ত ত্বক দূর করে ব্রণ নিরাময়ে সাহায্য করে এবং ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায় । ১ চা চামচ লেবুর রস একটি বাটিতে নিন । তারপর তার মধ্যে কিছুক্ষণ তুলার বল ভিজিয়ে রাখুন । ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্রণের স্থান গুলোতে লাগান । পুরোরাত এটি রেখে দিন । সকালে গুম থেকে উঠার পর মুখ হালকা গরম  পানি দিয়ে ধুয়ে নিন । সর্বউত্তম ফলাফল পাওয়ার জন্য আপনি এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত চালিয়ে যেতে পারেন যতদিন না আপনার ব্রণ দূর হয় । 

শসার রস এর ব্যবহার 

শসার রস ও তৈলাক্ত ত্বক দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে । প্রতিদিন আমদের নানা কাজে ঘরের বাহিরে যেতে হয় । ব্রণ যুক্ত ত্বকের জন্য বাহিরের ধূলাবালি ,বিভিন্ন ধরনের ব্যকটেরিয়া খুবই বিপদজনক । যেগুলো ব্রণের সাথে মিশে ব্রণ উৎপন্ন স্থানে ইনফেকশনের তৈরি করে চেহেরায় কালো দাগ সৃষ্টি করে । তাই এসব কিছু থেকে মুক্তি পেতে চাইলে বাহির থেকে এসে শসার রস দিয়ে আপনি মুখ পরিষ্কার করতে পারেন । নিয়মিত এই পদ্ধতিটি অবল্বণ করতে পারলে আপনি পাবেন ব্রণ মুক্ত সুন্দর একটি ত্বক । তবে এক্ষেত্রে ক্ষেতের ফ্রেশ শসা ব্যবহার করা উচিত । 

চন্দনকাঠের গুড়ো ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার 

চন্দনকাঠের গুড়ো ও কাঁচা হলুদের মিশ্রণ এই প্রণালী অনেক কার্যকারী একটি প্রক্রিয়া । আমরা সবাই জানি চন্দনকাঠের গুড়ো ও কাচা হলুদ আমাদের ত্বকের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন একটি উপাদান । সমপরিমাণ চন্দনকাঠের গুরো ও কাচা হলুদ বাটা একত্রে করে পরিমাণ মত পানি দিয়ে পেষ্ট তৈরি করেত হবে । তৈরিকৃত এই পেষ্ট আপনার ব্রণ আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে রেখে কিছুক্ষন পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধূয়ে নিতে হবে । এই মিশ্রণ শুধু আপনার ব্রণই দূর করবে না ,সেই সাথে আপনার মুখের কালো দাগও দূর করতে সাহায্য করবে । 

আপেল ও মধুর ব্যবহার 

অপেল ও মধুর মিশ্রণ হলো মুখের দাগ দূর করার সবচাইতে জনপ্রিয়  ঘরোয়া পদ্ধতি ।  প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরি করে নিতে হবে । তৈরিকৃত পেষ্ট এ ৫ থেকে ৬ ফোটা মধুমিশিয়ে নিতে হবে । তারপর তা মুখে ব্যবহার করতে হবে । শুকিয়ে আসলে ঠান্ডা পানি দিয়ে পুনরায় মুখ ভালকারে ধূয়ে নিতে হবে । এটি ত্বকের টান টান ভাব বজায় রাখে । সর্বউত্তম ফলাফলের জন্য আপনি এটি সপ্তাহে ৫ বা ৬ বার ব্যবহার করতে পরেন । অপনি অল্প কিছুদিনের মধ্যে পরিবর্তনটি দেখতে পাবেন । 

গ্রিন টি এর ব্যবহার 

গ্রিন টি ব্রণের বিরুদ্ধে খুবই কার্যকর । গরম পানি দিয়ে গ্রিনটি বানান । তারপর ঠান্ডা করে তুলোদিয়ে এই গ্রিনটি ব্রণের উপর লাগান । প্রণালীটি লাগানোর পর ২০ মিনিট মুখে রাখুন । ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন । এতেও আপনি ভালো ফলাফল পাবেন । 

সরিষা ও মধুর ব্যবহার 

সরিষাতে প্রচুর পরিমান স্যালিসিলিকএসিড রয়েছে । যা অতি সহজেই মুখের ব্রণের জীবানু ধ্বংস করতে সক্ষম । কিছুপরিমাণ সরিষা গুড়োর সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে লাগান । ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ভালবাবে ধূয়ে নিন । এতে ব্রণ দূর হওয়ার পাশাপাশি ব্রণের দাগও দূর হবে যাবে । 

মুখ পরিষ্কার রাখা 

ব্রণ দূর করার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে ব্রণ যুক্ত মুখ পরিষ্কার রাখা । তাই বলে মুখ ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে ব্যাপারটি এই রকম নয় । এতে করে আপনি আরো সমস্যার সম্মূখীন হতে পারেন । সকাল-দপুর-রাতে তিনবার করে মুখ পরিষ্কার রাখলেই চলবে । তবে এই ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি ব্যবহার না করে গরম পানি ব্যবহার করায় অতি উত্তম । মুখ মুছতে নরম তোয়ালে ব্যবহার করুন । তবে এই ক্ষেত্রে সবান ব্যবহার না করে ভালো কোন কোম্পানির ফ্রেশ ওয়াশ ব্যবহার করুন । 

পর্যপ্ত পানি পান কারা

পানি অপর নাম জীবন । প্রতিদিন পানি হাওয়ার একটা লিমিট রয়েছে । লিমিট থেকে বেশি পানি খাওয়া ও ঠিক না আবার কম খাওয়াও ঠিক না । অনেকেই পানি পান কম করেন যার ফলসূতিতে ত্বকে অনেক ধরণের ব্রণের সৃষ্টি হয় । তাই ত্বককে ব্রণ এর হাত থেকে বাঁচাতে হলে পর্যপ্ত পরিমান পানি খাওয়ার কোন বিকল্প নাই । 

ব্রণের হাত থেকে বাঁচার জন্য কোন কিছু সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । নিজে নিজে কোন ঔষধ সেবন করতে যাবেন না । এতে করে খিতের বিপরীত হতে পারে । উক্ত নিয়ম থেকে যেকোন একটি প্রণালী সঠিক ভাবে ব্যবহার করুন  এতে করে আপনি পাবেন ব্রণহীন সুন্দর একটি ত্বক ।

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ